৯ দফা দাবি পূরণ ও বাস্তবায়ন চায় সিলেটের শিক্ষার্থীরা

৯ দফা দাবি পূরণ ও বাস্তবায়ন চায় সিলেটের শিক্ষার্থীরা

 রাজধানীতে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার জেরে নিরাপদ সড়ক, ঘাতক বাস চালকদের বিচার করাসহ ৯ দফা দাবিতে টানা ৫ দিন ধরে রাজধানীসহ সিলেটেও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে আসছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

সোমবারও সিলেট নগরীর চৌহাট্টা পয়েন্টে নিজেদের উত্থাপিত ৯দফা দাবি বাস্তবায়নে বিক্ষোভ করছে। সোমবার বেলা দেড়টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা রাজপথে রয়েছেন।

প্রায় হাজার খানেক শিক্ষার্থী নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন। ‘স্কুল ড্রেসে রক্ত কেন? জবাব চাই, দিতে হবে!’ ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’।

এর আগে বেলা ১১ টা থেকে নগরীর বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে এসে জড়ো হন চৌহাট্টা পয়েন্টে। যোগ দেন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও।

শিক্ষার্থীরা মূল রাস্তায় খন্ড খন্ড হয়ে বসে স্লোগান দিচ্ছেন। পয়েন্টের চারদিকের রাস্তায় কার্যত যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে জরুরিসেবার গাড়িগুলো যেতে পারছে। আজ শিক্ষার্থীরা গাড়ির কোনরকম কাগজপত্র পরীক্ষা নিরীক্ষা করছে না।

আন্দোলনরত একাধিক শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন- তারা বিকাল ৫টা পর্যন্ত রাজপথে অবস্থান করবেন। তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তাদের ভীড়ে যাতে কোন অপশক্তি ঢুকে না পড়ে সে ব্যাপারে তারা নিজেরাও সজাগ রয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা। তারা বলেছেন আমাদের আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে নয়। সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে।

সারাদেশের শিক্ষার্থীদের ৯দফা দাবিসমূহ হচ্ছে-

১. বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো ড্রাইভারকে ফাঁসি দিতে হবে এবং এই বিধান সংবিধানে সংযোজন করতে হবে।
২. নৌপরিবহন মন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
৩. ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল বন্ধ ও লাইসেন্স ছাড়া চালকরা গাড়ি চালাতে পারবেন না।
৪. বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া যাবে না।
৫. শিক্ষার্থীদের চলাচলে এমইএস ফুটওভারব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থাগ্রহণ করতে হবে।
৬. প্রত্যেক সড়কে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় স্পিডব্রেকার দিতে হবে।
৭. সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্রছাত্রীদের দায়ভার সরকারকে নিতে হবে।
৮. শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে থামিয়ে তাদের নিতে হবে।
৯. শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রসঙ্গত, ২৯ জুলাই রবিবার দুপুরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনের বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। বাসচাপায় আহত হন আরও ১৩ জন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।