পরস্পরবিরোধী অবস্থানে সরকার ও মিল মালিকরা

পরস্পরবিরোধী অবস্থানে সরকার ও মিল মালিকরা

রাজধানীসহ সারা দেশে চালের দাম বৃদ্ধি নিয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থানে সরকার ও মিল মালিকরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে খাদ্যভবনে মতবিনিময় সভায় খাদ্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী চালের দাম নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানান।

চালের দাম কোথাও বাড়েনি দাবি করে চালকল মালিক সমিতি জানায়, দেশের উত্তরাঞ্চলসহ কোনো মিলেই চাল সঙ্কট নেই। যদিও সভার এক পর্যায়ে চালের দাম বাড়া নিয়ে হট্টগোলে জড়িয়ে পড়েন ঢাকা ও ঢাকার বাইরের ব্যবসায়ীরা।

কোনো একটা দেশ অর্থনৈতিকভাবে কতটা সমৃদ্ধ তা বোঝার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে দেখা হয় সে দেশ কতোটা স্বয়ংসম্পূর্ণ খাদ্য উৎপাদনে। আপাতদৃষ্টিতে সরকারের আগের মেয়াদ বিবেচনায় নিলে চোখে পড়বে না ধান চালের সংকট। এরপরও রাজধানীসহ সারা দেশের বাজারে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই কেজিপ্রতি দুই থেকে তিন টাকা বাড়ছে চালের দাম।

বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত খোদ সরকারই, তাই খাদ্যভবনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় রাখঢাক না রেখেই চালকল মালিকদের কাছে এর ব্যাখ্যা চান নতুন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

সভায় দেশের কোথাও চালের দাম বাড়েনি দাবি করে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য প্রদানে সময়মতো চাল ক্রয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান মিল মালিকরা।

তবে, সভার এক পর্যায়ে চালের দাম বেড়েছে কিনা তা নিয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন মিল মালিকদের দুটি সংগঠনের নেতারা।

পরিস্থিতি বিচারে উৎপাদন বা সরবরাহে কোনো ঘাটতি না থাকার পরও চালের দাম বৃদ্ধি নিয়ে অসন্তোষ জানান বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

সভায় যে কোনো ধরনের সংকট এড়াতে সরকারি চাল মজুদের পরিমাণ ৫০ লাখ টন করার পাশাপাশি মিলের সঙ্গে আড়তের দামের পার্থক্য কঠোরভাবে তদারকির পরামর্শ দেয় মিল মালিকরা। এসময় বাজার নিয়ন্ত্রণে যেকোনো পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন সরকারের দুই মন্ত্রী।