'নয় দফা না মানলে শিক্ষার্থীদের দাবি এক দফায় পরিণত হবে'

'নয় দফা না মানলে শিক্ষার্থীদের দাবি এক দফায় পরিণত হবে'

সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, রাজপথে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের নয় দফা না মানলে তাদের দাবি এক দফায় পরিণত হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতায় থাকতে হলে নৌমন্ত্রী শাজাহানকে মন্ত্রীপরিষদের বাইরে রাখতে হবে। নইলে প্রধানমন্ত্রীকেই ক্ষমতা ছাড়তে হবে।

আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘ভোটাধিকার নিশ্চিত এবং বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের প্রস্তাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তবে একথা বলেন তিনি।

জোটের সমন্বয়ক সাইফুল হকের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক, সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান, বামনেতা আলমগীর হোসেন দুলাল, মোশরেফা মিশু, ফিরোজ আহমেদ, বজলুল রশিদ ফিরোজ, ফয়জুল হাকীম। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সিপিবি সাধারণ সম্পাদক মো. শাহআলম।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম আরো বলেন, আওয়ামী লীগের দুঃশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে। এজন্য আশু, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী সংগ্রাম প্রয়োজন। তিনি বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ভোট সম্ভব নয়। পার্লামেন্ট বহাল রেখে গ্রহণযোগ্য ভোট সম্ভব নয়। প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে এবং ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করার নামই হচ্ছে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড।
নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইভিএম চালু না করে এর অর্থ দিয়ে প্রতিটি কেন্দ্র সিসিটিভি বসানোর ব্যবস্থা করুন।

ড. শাহদীন মালিক বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান ইসি গ্রহনযোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ফল কি হবে সবারই জানা। তিনি বলেন, দেশ দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে। আইনের প্রয়োগ নাই। ছাত্রদের দাবির প্রেক্ষিতে যে নতুন আইন করার কথা বলা হচ্ছে তাও ভাওতাবাজি। নতুন আইন বছরেও একটা লোককে নির্দোষ প্রমাণিত করতে পারবে না।

মিজানুর রহমান খান বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রী শাসিত সরকারে রয়েছি। তিনি বলেন, নির্বাচন ঘনিয়ে আসলেই সংস্কারের দাবি জানানো হয়। এটা ভ্রান্ত, সারা বছর সংস্কারের দাবি জানাতে হবে।
সাইফুল হক শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্বতা ঘোষণা করে বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এজন্য নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্ররা সরকারের ঘোষণা আমলে নিচ্ছে না।

লিখিত বক্তবে মো. শাহআলম নির্বাচনের আগে পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দেওয়া, নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনী আইন ও বিধির সংস্কার, সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা প্রবর্তন, নির্বাচনী ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কারসহ নানান দাবি তুলে ধলেন।