সিসিটিভি দেখে ছিনতাইকারীদের সর্দার গ্রেফতার

 সিসিটিভি দেখে ছিনতাইকারীদের সর্দার গ্রেফতার

আন্তঃজেলা ছিনতাইকারী দলের সর্দার ও সাবেক ব্যাংক কর্মচারী ‘লন্ডনী হোসেন’ ওরফে আলী হোসেন তৌফিককে গ্রেফতার করেছে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ। বিশ্বনাথে সংগঠিত হওয়া একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনার মূলহোতা হোসেনকে দীর্ঘ ৯ মাস ধরে খুঁজছিল পুলিশ। অবশেষে শনিবার দুপুরে রাখালগঞ্জ বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

আলী হোসেন তৌফিক ওসমানীনগর উপজেলার নাগেরকোনা গ্রামের মৃত নিজাম উদ্দিনের ছেলে।

উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড ও ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড বিশ্বনাথ শাখার সিসিটিভির ফুটেজ দেখে বিশ্বনাথে থাকা দুটি ছিনতাইকারী দলের একটির প্রধান লন্ডনী হোসেনকে চিহ্নিত ও গ্রেফতার করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ। পুলিশ আরোও জানায়, গ্রেফতারকৃত হোসেনের বিরুদ্ধে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন থানায় একাধিক ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে।

গ্রেফতারের পর পুলিশকে লন্ডনী হোসেন জানান, তিনি প্রায় ৬-৭ বছর সোনালী ব্যাংক বিশ্বনাথ শাখায় ৮ হাজার টাকা মাসিক বেতনে পিওনের চাকুরি করেছে। প্রায় ৪ বছর পূর্বে ওই চাকুরি তিনি ছেড়ে দেন। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন ব্যাংকে গিয়ে বসে থাকতেন। লোকজন ব্যাংক থেকে মোটা অংকের টাকা তুলে নেয়ার বিষয়টি তার সঙ্গীয় ছিনতাইকারীদের জানাতেন তিনি। পরে তার সঙ্গীরা রাস্তায় আক্রমণ করে লোকজনের টাকা ছিনতাই করে নিত। তার (হোসেন) বেশীর ভাগ টার্গেট হতেন মহিলারা।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন, ‘২০১৭ সালের ২৯ নভেম্বর উত্তরা ব্যাংক থেকে প্রায় ২৩ লাখ টাকা উত্তোলন করেন উপজেলার বগিরচক গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী জুলহাস মিয়ার স্ত্রী জেবুন নাহার ও মা প্রবাসী জরিনা খাতুন। সিএনজিচালিত অটোরিক্সায় টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় বগিরচক নামক স্থান থেকে তাদের কাছ থেকে টাকা ছিনতাই করে ওই চক্রটি। এসময় তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল সেটও লুট করা হয়। তবে পরদিন ওই ছিনতাইয়ের ঘটনায় জেবুন নাহার বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন মাত্র দেড় লাখ টাকা আর মোবাইলের। ওই মামলার সূত্র ধরেই ব্যাংকের সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ছিনতাইকারী হোসেনকে শনাক্ত করা হয়। তাকে গ্রেফতারের পর সিসিটিভির ফুটেজে যে কাপড় পরিধান করা অবস্থায় দেখা যায় হোসেনকে, সেসব কাপড় উদ্ধার করে পুলিশ।’

তিনি বলেন, ‘এর পূর্বে সিলেটের করিম উল্লাহ মার্কেটে একজনের কাছ থেকে লুণ্ঠিত একটি মোবাইল সেটও উদ্ধার করা হয়। এর পূর্বে চলতি বছরের ১৫ মে ডাচ-বাংলা ব্যাংক থেকে ৩ লাখ টাকা উত্তোলন করেন ছাতক উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের আবদুল মতিনের পুত্র জামরান আহমদ (৩৭)। তিনি সিএনজিচালিত অটোরিক্সায় বাড়ি ফেরার সময় নরসিংপুর (বিশ্বনাথ-লামাকাজী সড়ক) নামক স্থান থেকে তার টাকা ছিনতাই করা হয়। ডাচ-বাংলা ব্যাংকে থাকা সিসি ক্যামেরার সে দিনের ফুটেজেও তাকে (হোসেন) দেখা যায়। ওই ৩ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের পর নিজের ভাগে মাত্র ৫ হাজার টাকা পেয়েছে বলে হোসেন জানায়।’

যত দ্রুত সম্ভব বিশ্বনাথে সংগঠিত সকল ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত সবাইকে এবং মোটরসাইকেল ও অটোরিক্সা চুরির সাথে জড়িতদেরকে গ্রেফতার করা হবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন বিশ্বনাথ থানার ওসি মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা।