সমর্থক-সাংবাদিকদের সঙ্গে ম্যারাডোনার হাতাহাতি

সমর্থক-সাংবাদিকদের সঙ্গে ম্যারাডোনার হাতাহাতি

মাদক সেবন, একাধিক গার্লফ্রেন্ড, সন্তানকে অস্বীকার, আর্জেন্টিনা বিদ্বেষী বক্তব্য, কখনো আবার ফিফার প্রধানকে গালাগালি—সব সময়ই বিতর্ক যেন বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন ফুটবলার ডিয়াগো ম্যারাডোনার নিত্য সঙ্গী। এসবের পাশাপাশি বিভিন্ন সময় নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছেন এই ফুটবল-ঈশ্বর।

এবার আরও একবার খবরের শিরোনামে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জেতা এই কিংবদন্তী ফুটবলার। তবে এবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মারপিটে জড়িয়ে যাওয়ার কারণে আলোচনায় ম্যারাডোনা।
মেক্সিকোয় ফুটবল দল দোরাদোসের হয়ে কোচিং করাচ্ছিলেন। গতকাল সোমবার তার দল ২-৪ গোলের ব্যবধানে হারে অ্যাটলেটিকো সান লুইসের বিরুদ্ধে। এই হারে লিগা এমএক্স-এ উঠতে পারেনি ম্যারাডোনার দল দোরাদোস। ক্ষোভে-হতাশায় ম্যারাডোনা প্রথমে সমর্থকদের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ান।

এরপর সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি। হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন সাংবাদিকদের সঙ্গে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে ম্যারাডোনা এক সাংবাদিককে ঘুসি মারছেন। যা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

গত সেপ্টেম্বরে মেক্সিকান ক্লাব দোরাদোসের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। সে সময় এই ক্লাবটি লিগ তালিকায় একদম নিচের দিকেই ছিল। কিন্তু ম্যারাডোনার কোচিংয়ে এই দলই খেলে প্লে অফ ফাইনালে।

ফাইনালের প্রথম লেগে অ্যাটলেটিকো সান লুইসের বিরুদ্ধে ১-০ গোলে জয় পায় দোরাদোস। কিন্তু ওই ম্যাচে প্রতিপক্ষ দলের কোচ আলফেন্সো সোসাকে বারবার হুমকি দেওয়ায় দ্বিতীয় লেগে ম্যারাডোনাকে বসতে হয়েছিল গ্যালারিতে। সোমবারের ম্যাচে দল ফের এগিয়ে যেতে গ্যালারিতেই উৎসব শুরু করে দেন ম্যারাডোনা।

শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচ জিতে লিগা এমএক্স-এ খেলার ছাড়পত্র পেয়ে যায় অ্যাটলেটিকো সান লুইস। ম্যাচ শেষে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে করিডর দিয়ে আসছিলেন ম্যারাডোনা। ওই করিডরে সান লুইসের সমর্থকরা বিদ্রূপ করতে থাকেন ম্যারাডোনাকে। কেউ একজন ম্যারাডোনার ওজন নিয়েও রসিকতা করেন। যা মেনে নিতে পারেননি ম্যারাডোনা। সঙ্গে সঙ্গে ওই সমর্থকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন ম্যারাডোনা।

ওই করিডরে সান লুইসের সমর্থকদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কয়েকজন সাংবাদিকও। ম্যারাডোনার আচরণ নিয়ে প্রশ্ন করে বসলে এক সাংবাদিককে ঘুষি মারতে তেড়ে যান ম্যারাডোনা।

এ সময় ম্যারাডোনা বলতে থাকেন, আমার সামনে এসে কথা বলো! শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তারক্ষীরা ম্যারাডোনাকে লিফটে তুলে দেওয়ায় ঝামেলা আর বাড়েনি। তবে ওই ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ পেতেই ছড়িয়ে পড়ে নেট দুনিয়ায়। যার জেরে বিতর্কের মুখে পড়েছেন বিশ্বকাপ জেতা এই কিংবদন্তি।