আইএমইআই নম্বর, ফিঙ্গার প্রিন্টও পাল্টাচ্ছে অপরাধীরা

আইএমইআই নম্বর, ফিঙ্গার প্রিন্টও পাল্টাচ্ছে অপরাধীরা

 অপহরণ, হত্যা-গুমের মতো অপরাধ করে মোবাইল ফোনের আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি) নম্বর পাল্টে ফেলার তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুধু তাই নয়, ফিঙ্গার প্রিন্টও পাল্টে দিত একটি চক্র।

গুলিস্তান নির্ভর এই চক্রের কাজটি করে দিতেন ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ। তার নাম মাসুদ লাকুরিয়া। তিনশ টাকার বিনিময়ে এই কাজটি করতেন তিনি। দিনে ডজন খানেকের বেশি মোবাইলের আইএমইআই নম্বর পাল্টাতেন তিনি।

মাসুদ এই কাজে জড়িত এক বছর ধরে। তিনি এটি শিখেছেন তার এক বড় ভাইয়ের কাছ থেকে। তিনি দেশের বাইরে চলে যাওয়ার পর মাসুদ এই চক্রের নেতা হন।

একটি ফোনের স্বতন্ত্র সিরিয়াল নম্বর হচ্ছে আইএমইআই। এটি থাকে ফোনের ভেতরে। এই নম্বর দিয়েই একটি ফোন থেকে আরেকটিকে আলাদা করা যায়। আর এই নম্বর ব্যবহার করেই পুলিশ মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে। মোবাইলের সিম পাল্টালেও আইএমইআই নম্বর দিয়েই অপরাধী শনাক্ত করা যায়।

এই নম্বর পাল্টানো সম্ভব, এটি এতদিন জানা যায়নি। এখন প্রমাণ পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রীতিমতো উদ্বিগ্ন।

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কোন নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না-সেটি খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছে র‌্যাব। আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এই ব্যাপারে আরও তথ্য পাওয়ার আশা করছে বাহিনীটি।

র‌্যাব জানায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে চোরাই ও ছিনতাই হওয়া দামি মোবাইলের আইএমইআই নম্বর পাল্টে দিত। পরে মোবাইলগুলো অপরাধীরা কিনে জঙ্গি কার্যক্রম, অপহরণ, হত্যা, গুম ও মাদক ব্যবসার কাজে ব্যবহার করত। ফলে এই মোবাইলগুলো ট্র্যাকিং করেও অপরাধীদের শনাক্ত করা যায় না।

সোমবার রাজধানীর গুলিস্থান এলাকায় দিনভর অভিযান চালিয়ে এই চক্রের মূলহোতা ১৫ জনকে গ্রেপ্তারের করা হয়। এসময় আইএমইআই পরিবর্তন করা বিপুল পরিমাণ মোবাইল, আইএমইআই পরিবর্তনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমরানুল হাসান।

তিনি জানান,  গুলিস্থান পাতাল মার্কেটের বিসমিল্লাহ টেলিকমে অভিযান চালিয়ে মাসুদকে মোবাইলের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করা অবস্থায় হাতেনাতে আটক করা হয়।

পরে মাসুদের দেয়া তথ্যে মাওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়াম মার্কেটের ১১ দোকানে অভিযান চালানো হয়। এসময় বিভিন্ন ব্রান্ডের ৫৩১টি মোবাইল, একটি ল্যাপটপ, দুইটি কম্পিউটার, আইএমইআই পরিবর্তনের ছয়টি ডিভাইস জব্দ ও ১৫ জনকে আটক করা হয়।

এ সময় মাসুদ ছাড়াও আটক হন মো. রিপন, রাশেদ খান, আনিস মোল্লা, জাহিদুল ইসলাম, মো. পলক, মো. রাশেদুল ইসলাম, মো. নাইম সরদার, মো. স্বপন, মো. মোতালেব, রানা হামিদ, আব্দুল মান্নান, মাসুদ রানা, মো. নাজিম ও কামাল হোসেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা এমরানুল হাসান জানান, ‘আমরা বিভিন্ন অভিযানের সময় আটককৃতদের মোবাইল ফোনে বেশ কিছু অসঙ্গতি দেখতে পাই। তার কারণ অপরাধের পরই অপরাধীরা মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে ফেলে। এই অভিযানে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক মোবাইল সিম উদ্ধার করা হয়েছে।