সিরীয় সীমান্তে শরণার্থীদের ঢল নামার আশঙ্কা তুরস্কের

সিরীয় সীমান্তে শরণার্থীদের ঢল নামার আশঙ্কা তুরস্কের

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত প্রদেশ ইদলিবে বিদ্রোহীদের দমনে দেশটির সরকার ও তাদের মিত্রদের করা হামলায় শরণার্থীর ঢল নামার আশঙ্কা করছে তুরস্ক। তাই সিরিয়া সীমান্তে মোতায়েন করা তুর্কি সীমান্তরক্ষীদের সতর্ক করার পাশাপাশি সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতে মোতায়েন করা হয়েছে বাড়তি সেনা। তুরস্কের একটি নির্ভরযোগ্য সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে আর্ন্তজাতিক সংবাদমাধ্যম এ খবর জানিয়েছে।

এদিকে, সিরিয়ার ইদলিবে বেপরোয়া হামলা না চালাতে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে হুঁশিয়ারি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়া ও ইরানের সহায়তায় ওই অঞ্চলে বেপরোয়া হামলায় মানবিক সংকটের পাশাপাশি লাখ লাখ লোক নিহত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।

তবে বাশার আল-আসাদ ইদলিব পুনরুদ্ধার করতে ধাপে ধাপে আক্রমণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই প্রদেশের আশপাশের এলাকাগুলো আসাদের বিরুদ্ধে লড়াইরত বিদ্রোহীদের দখলে থাকা শেষ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। যেখানে প্রায় ৩০ লাখ বেসামরিক লোকের বসবাস।

এদিকে, শরণার্থীর ঢল নামার আশঙ্কায় তুরস্কের দক্ষিণ পূর্ব সীমান্তের ৫০ কিলোমিটার দূরে হাতয় প্রদেশের একটি বিমানবন্দরে সৈন্যদের পৌঁছতে দেখা যায়। তবে এসব সৈন্য সীমান্ত অতিক্রম করবে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যতিও তুরস্ক ইতোমধ্যে সিরিয়া থেকে আসা প্রায় ৩৫ লক্ষ শরণার্থীকে জায়গা দিয়েছে। তাই নতুন করে আর কোন শরণার্থী নিতে চাইছে না দেশটি।
দেশটির একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষ্ট মেটিন গুরকান বলেন, এ ধরনের সৈন্য সমাবেশের উদ্দেশ্য হলো নিরাপত্তা জোরদার করা যাতে সীমান্ত দিয়ে নতুন করে আর শরণার্থী প্রবেশ করতে না পারে।
 
ইদলিবে সিরিয়া-রাশিয়া হামলার পর ইতোমধ্যে সেই অহ্চল ছেড়ে ৪০ হাজার মানুষ পালিয়ে গেছে। পুরোদমে আক্রমণ শুরু হলে অন্তত ৯ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ।

উল্লেখ্য, এর আগে বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ঘাঁটিতে হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে বাশার আল-আসাদের অনুগত সামরিক বাহিনী ও তাদের মিত্র রাশিয়ার বিরুদ্ধে।