যে কারণে এবার আর আন্ডারডগ নয় বাংলাদেশ

যে কারণে এবার আর আন্ডারডগ নয় বাংলাদেশ

এখনো পর্যন্ত চারবার বিশ্বকাপ খেলেছে বাংলাদেশ। প্রতিবারই খেলতে গিয়েছে বড় কোনো লক্ষ্য ছাড়াই। তবে এবার বাংলাদেশ নিজেদের পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলতে গেছে শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে। সে স্বপ্ন যে একেবারেই উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয় তাও সাম্প্রতিক সময়ে প্রমাণ করেছে টাইগাররা।

২০১৮ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ম্যাচ জয়ের দিক থেকে আছে তিন নম্বরে। গত বিশ্বকাপের পর থেকে বিশ্বের প্রায় সব দলকেই ঘরে-বাইরে হারিয়েছে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। যে কারণে এবারের বিশ্বকাপে কেউই টাইগারদের ছোট করে কথা বলার সাহস পাচ্ছে না, বরং যথাযথ সম্মান দেখিয়ে বলছে জোর লড়াইয়ের কথা।

জনপ্রিয় ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো তাদের আলোচনায় বের করেছে এনেছে যে কারণে এবারের বিশ্বকাপে আন্ডারডগ নয় বাংলাদেশ। চলুন দেখে নেওয়া যাক সেগুলো:

সাকিব আল হাসান

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তার অন্যতম বড় কারিগর তিনি। বাংলাদেশের বিশ্বকাপে ভালো করা আর না করা অনেকটাই নির্ভর করছে তার উপর। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান ও উইকেট দুই জায়গায়ই সবার ওপরে সাকিব আল হাসান। আইসিসির ওয়ানডে অলরাউন্ডারদের র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষেও রয়েছেন বাংলাদেশ দলের সহ-অধিনায়ক।

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ

গত বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো বিশ্ব আসরের নকআউট পর্বে পৌঁছায় বাংলাদেশ। টাইগারদের এমন সাফল্যের পিছনে বড় ভূমিকা ছিলো মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিকেটের বিশ্ব আসরে সেঞ্চুরির কৃতিত্বও তার দখলে। ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গত বিশ্বকাপেই করেছিলেন টানা দুই সেঞ্চুরি। এবারের বিশ্বকাপেও দলের অন্যতম ভরসা তিনি।

তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহীম

২০০৭ বিশ্বকাপে শক্তিশালী ভারতকে প্রথম রাউন্ডেই বিদায় করে দেওয়ার অন্যতম নায়ক এই দুজন। এখন সময়ের সঙ্গে পরিণত হয়েছেন দুজনেই। সাম্প্রতিক সময়ে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ওপেনার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন তামিম ইকবাল। মুশফিকুর রহীমও নিজেকে প্রমাণ করেছেন নির্ভরশীল ব্যাটসম্যান হিসেবে। এবারের বিশ্বকাপে তাই দল তাকিয়ে থাকবে এই দুইজনের পারফরম্যান্সের দিকেও।

র‌্যাংকিংয়ে সাতে অবস্থান

আইসিসির ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে বর্তমানে সাতে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। টাইগারদের পিছনে রয়েছে দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। র‌্যাংকিংয়ে এমন অবস্থানও নিশ্চয়ই বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিবে।

অধিনায়কের ভূমিকা

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের সাফল্যের পিছনে যে কয়েকটি জিনিসের বড় অবদান, তার মধ্যে অন্যতম মাশরাফি বিন মুর্তজার অধিনায়কত্ব। তার নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলেছে বাংলাদেশ, ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিতেও খেলেছে মাশরাফির অধিনায়কত্বেই। তার বিচক্ষণ নেতৃত্ব এবারও বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে দেখাচ্ছে বড় স্বপ্ন।

জয়-পরাজয়ের ইতিবাচক হার

গত বিশ্বকাপ থেকে এই বিশ্বকাপ পর্যন্ত ফল আসা ৫৯ ওয়ানডের মধ্যে ২৫ ম্যাচে হেরেছে বাংলাদেশ। বিপরীতে জয়ের সংখ্যা ৩৪ ম্যাচে। ম্যাচ জয় ও হারের এমন ব্যবধানও বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে বাড়তি প্রেরণা যোগাবে।

সৌজন্যে : জাগোনিউজ