ভারতের ম্যারাথন লোকসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ চলছে

ভারতের ম্যারাথন লোকসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ চলছে

খবর ডেস্ক :: ভারতের ম্যারাথন লোকসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার সকালে। আজকের এই ভোটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে স্বাধীনতার দাবিতে সোচ্চার কাশ্মীর।

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের প্রধান শহর শ্রীনগরে নির্বাচন উপলক্ষে কয়েক হাজার সেনা, আধাসামরিক বাহিনী ও পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় এক তরুণ কাশ্মীরির আত্মঘাতী হামলায় একটি আধাসামরিক বাহিনীর ৪০ জওয়ান নিহত হওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রচারে জোয়ার বয়ে আনে কাশ্মীর।

কর্তৃপক্ষ শ্রীনগরের বহু সড়ক বন্ধ করে দিয়েছেন। শহরের বেশ কিছু অংশ দিয়ে চলাফেরা না করতে স্থানীয়দের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সড়কে ও ঝিলুম নদীর তীরে নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

ভারতের ৯০ কোটি ভোটারের মধ্যে সাড়ে ১৫ কোটি আজ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় যেতে নিজের নির্বাচনী প্রচারে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন মোদি।

নির্বাচনে তিনি এগিয়ে থাকলেও বিরোধী প্রার্থী রাহুল গান্ধীর কঠোর চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে হচ্ছে তাকে। হিন্দুত্ববাদীর মোদির অর্থনৈতিক ব্যর্থতা নিয়ে বারবার আঘাত হানছেন রাহুল।

এদিকে প্রথম দফায় হামলা, ইভিএম ভাঙচুর ও হতাহতের ঘটনা সত্ত্বেও ফের জমে উঠেছে ভারতের লোকসভা নির্বাচন। বানচাল হওয়া দূরের কথা আরও সরগরম হয়ে ওঠে দ্বিতীয় দফার প্রস্তুতি। আগের দিন বুধবার শেষ সময় পর্যন্ত প্রচার চালিয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো। নেতারা ছুটে বেড়িয়েছেন দেশের একপ্রান্ত থেকে আরেকপ্রান্তে।

প্রথম দফার পরই প্রচার কৌশলে পরিবর্তন এনে জাতীয় ইস্যুর বদলে আগের সেই উন্নয়নমন্ত্র জপেই ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেছেন বিজেপি শিবিরের কর্ণধার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

বিপরীতে ক্ষমতাসীনদের কট্টর হিন্দুত্ব জাতীয়তাবাদ ও বিভাজনের রাজনীতিকে দূরে ঠেলে অসাম্প্রদায়িক ভারত গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীরা।

এনডিটিভি জানায়, নির্বাচন কমিশনের নিয়মানুযায়ী, প্রথম ধাপের সাত দিন পরই দ্বিতীয় ধাপের ভোট। সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। ১২টি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত এলাকা মিলে ৯৫টি আসনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে।

আসনগুলোর বিপরীতে লড়ছেন ১ হাজার ৫৯০ প্রার্থী। এদের ৪২৭ জনই কোটিপতি। তাই শঙ্কা আছে ভোট কেনাবেচার। এ দফায় তামিলনাড়ুর ৩৯টি আসনের ৩৮টি আসনে ভোট হচ্ছে।

এ রাজ্যের ভেলোরে দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে) প্রার্থীর ডেরা থেকে ১১ কোটি ৮০ লাখ রুপি উদ্ধারের পর ভোট বাতিল করেছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।

এখানে লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গে ১৮টি বিধানসভা আসনে বাই-ইলেকশনের ভোট হচ্ছে। উভয় নির্বাচনেই ক্ষমতাসীন অল ইন্ডিয়ান দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগাম (এআইএডিএমকে) ও বিজেপি জোটের সঙ্গে বিরোধী ডিএমকে ও কংগ্রেস জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপে তামিলনাড়ুর ৩৮টি আসন ছাড়া আসাম রাজ্যের পাঁচটি, বিহারের পাঁচ, ছত্তিশগড়ের তিন, জম্মু-কাশ্মীরের দুটি, কর্নাটকের ১৪, মহারাষ্ট্রের ১০, মনিপুরের এক, উড়িষ্যার পাঁচ, ত্রিপুরার এক, উত্তরপ্রদেশের আট, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের তিন ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পন্ডিচেরির একটি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে গত ১১ এপ্রিল রাজ্যের ও কেন্দ্রশাসিত ৯১টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়।

এর মধ্যে রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশের ২৫, অরুণাচল প্রদেশের দুই, আসামের পাঁচ, বিহারের চার, ছত্তিশগড়ের এক, জম্মু-কাশ্মীরের দুই, মহারাষ্ট্রের সাত, মনিপুরের এক, মেঘালয়ের দুই, মিজোরামের এক, নাগাল্যান্ডের এক, উড়িষ্যার চার, সিকিমের এক, তেলেঙ্গানার ১৭, ত্রিপুরার এক, উত্তরপ্রদেশের আট, উত্তরাখণ্ডের পাঁচ, পশ্চিমবঙ্গের দুই, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের এক ও লাক্ষাদ্বীপের একটি আসনে ভোট হয়।

নির্বাচনে দেশজুড়ে ৬৯.৪৩ শতাংশ ভোট পড়ে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের দুটি আসনে ভোট পড়েছিল ৮০ শতাংশেরও বেশি। আর সবচেয়ে কম ভোট পড়েছিল বিহারে। সৌজন্যে: যুগান্তর