নুসরাতের জন্য পথে ঢাবি শিক্ষার্থীরা

 নুসরাতের জন্য পথে ঢাবি শিক্ষার্থীরা

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে পৃথকভাবে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (ডুসাফ) ও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। তারা অবিলম্বে এ ঘটনার মূলহোতা মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ অভিযুক্তদের ফাঁসি দাবি করেন। দাবি আদায়ে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

বেলা ১১টার দিকে মানববন্ধন ও পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। এতে বক্তব্য রাখেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর, সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন, ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, ফারুক হাসান প্রমুখ।

নুরুল হক নুর বলেন, দ্রুত নুসরাত হত্যা সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে সুরাহা করতে হবে। যদি সেটা করতে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়, তাহলে আন্দোলনকারীদের সংখ্যা বড় হলে রক্ষা হবে না। সময় থাকতে অন্যায় অনিয়ম দূরীকরণে ব্যবস্থা নিন।

এরপর দুপুর ১২টায় সন্ত্রাসবিরোধী রাজু স্মারক ভাস্কর্যের সামনে মানববন্ধন করে ডুসাফ। পরে ক্যাম্পাসে পদযাত্রাও করে তারা। ডুসাফের সভাপতি এবং ডাকসুর স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ফখরুল শামীমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ডুসাফের সাবেক সভাপতি ফোরকান মাহমুদ, ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যনির্বাহী সম্পাদক মুনির হোসেন, ডুসাফের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান মুন্না প্রমুখ।

সাদ বিন কাদের বলেন, এমন ঘটনা যেন অন্য কারও সাথে না ঘটে। ফেনীকে আগুনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই। যদি এমন রোমহর্ষক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হয়, তবে ডুসাফের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আমরা আবার আন্দোলনে যাবো।

ফয়েজ উল্লাহ বলেন, এমন নৃশংস ঘটনা আমাদের হতবিহ্বল করেছে। আমি সেই মাদরাসা অধ্যক্ষের ফাঁসি দাবি করছি। একই সঙ্গে তার সহযোগীদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে বলে আশা করছি।

উল্লেখ্য, ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী ছিলেন নুসরাত জাহান রাফি। এই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা নুসরাতকে তার কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন- এমন অভিযোগে গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার। নুসরাতের স্বজনদের অভিযোগ, মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় অধ্যক্ষের পক্ষের লোকজন তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। এরপর থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিলেন নুসরাত। গতকাল (বুধবার) রাত সাড়ে ৯টায় মারা যান তিনি।

সৌজন্যে : জাগোনিউজ