আমরা কেন ভুলে যাই, মনে রাখার সিক্রেট কী?

আমরা কেন ভুলে যাই, মনে রাখার সিক্রেট কী?

আমরা সারাজীবন জানা অজানা কতকিছু সম্পর্কে জানি এবং মস্তিষ্কে তথ্য সংগ্রহ করি। তবুও সত্যিটা হচ্ছে আমরা সবকিছু সম্পর্কে জানি না। কারণ আমরা অনেক তথ্য ভুলে যাই। কেন এটা ঘটে?

কেন আমরা ভুলে যাই তার বিপরীতে যে প্রশ্নটি তৈরি হয় সেটি হচ্ছে, কেন আমরা মনে রাখতে পারি না? তাই কার্যকর কিছু উপায় খুঁজে পাওয়া জরুরী যা আমাদের মনে রাখতে সহায়তা করবে। জার্মানীর মনোবিজ্ঞানী হারম্যান ইববিংহাউস কোনো কিছু সহজেই মনে রাখার জন্য একটি সার্বজনীন সূত্রের কথা বলেছেন।

আমরা কেন ভুলে যাই?

আপনার মস্তিষ্ক আপনাকে অপ্রয়োজনীয় তথ্যগুলো থেকে আপনাকে রক্ষা করে। তাই নতুন যত তথ্য আপনি গ্রহণ করেন তার প্রায় সবই আমাদের মস্তিষ্কের শর্ট টার্ম মেমোরিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংগ্রহ করা হয়। শর্ট টার্মে মেমোরিতে সংগৃহীত নতুন তথ্যগুলো যদি আপনি পুনর্বার ব্যবহার না করেন, তাহলে তা আপনি খুব অল্প সময়েই ভুলে যাবেন। তাই তথ্য মনে রাখতে চাইলে আপনার শর্ট টার্ম মেমোরিতে থাকা তথ্যগুলি লং টার্ম মেমোরিতে নিয়ে আসতে হবে।

মুখস্ত করার সপ্তাহখানেক পর মাত্র ২০ শতাংশ তথ্য আমাদের মস্তিষ্কে থেকে যায়। 
মনোবিজ্ঞানী হারম্যান ইববিংহাউসের ভুলে যাওয়ার লেখচিত্র থেকে জানা যায়, কোনো নতুন তথ্য গ্রহণ করার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে তার প্রায় অর্ধেকের বেশি তথ্য আমরা ভুলে যাই। আর সপ্তাহখানেক পর মাত্র ২০ শতাংশ তথ্য আমাদের মস্তিষ্কে থেকে যায়।

যেভাবে মনে রাখবেন

কোনো তথ্য আপনার মস্তিষ্কে দীর্ঘসময় রাখতে চাইলে, সেই তথ্যগুলো মস্তিষ্কের লং টার্ম মেমোরি ইউনিটে নিয়ে আসতে হবে। জোরপূর্বক মুখস্ত করা বা মনে রাখার চেষ্টা করলে তা ফলপ্রসূ হবে না। কারণ এক্ষেত্রে আপনার মস্তিষ্ক গৃহীত তথ্যগুলো বুঝতে পারে না এবং সেগুলো নিয়ে প্রাসঙ্গিক ও যথার্থ সংযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়। যদি আপনি একান্তই কিছু স্বেচ্ছায় মনে রাখতে চান, তাহলে আপনার মনে রাখা/মুখস্ত করার জন্যে নির্ধারিত সময় বাড়াতে হবে।

যদি দ্রুত কিছু মুখস্ত করতে চান, তাহলে কোনো কিছু শেখার সঙ্গে সঙ্গে তা পুনর্বার পড়তে হবে। 
রিপিটিশন প্রসেসের মাধ্যমে কোনো কিছু দ্রুত মনে রাখা সম্ভব। যদি দ্রুত কিছু মুখস্ত করতে চান, তাহলে কোনো কিছু শেখার সঙ্গে সঙ্গে তা পুনর্বার পড়তে হবে। এরপর ২০-৩০ মিনিট অপেক্ষা করে, পুনরায় তা রিপিট করতে হবে। তৃতীয় এবং চতুর্থ রিপিটিশন করতে হবে যথাক্রমে ৬-৮ ঘণ্টা এবং ১ দিন পর। তারপর মুখস্ত করা এই নতুন তথ্যগুলি যদি দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে রাখতে চান, তাহলে যথাক্রমে ২-৩ সপ্তাহ এবং ২-৩ মাস পর তথ্যগুলি পুনর্বার ব্যবহার কর‍তে হবে।

মনে রাখার সিক্রেট

১) আপনি যা শিখছেন, তা বোঝার চেষ্টা করুন। কারণ বুঝে পড়লে তা মস্তিষ্ক ৯ গুণ দ্রুত মনে রাখতে পারে।

২) সবচেয়ে প্রয়োজনীয় তথ্যগুলোকে প্রথমে শিখুন।

৩) একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে, শুরুতে এবং শেষে আপনি যা পড়ছেন, মস্তিষ্ক সে তথ্যগুলোই ভালো করে মনে রাখতে পারে।

৪) একই টপিক নিয়ে বারবার পড়বেন না। এতে আপনার তথ্যগুলো একটির সঙ্গে অন্যটি এলোমেলো হয়ে যেতে পারে। তাই মাঝে মাঝে টপিক পাল্টে নিন।

৫) কোনো কিছু শেখার সময় বডি ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করুন। এটা আপনার পেশীর মেমোরিকে ট্রিগার করতে সাহায্য করবে।

৬) আপনি যে তথ্যগুলো শিখছেন তা একটি টেপ রেকর্ডারে রেকর্ড করে রেখে মাঝেমাঝে শুনতে পারেন। এটি আপনাকে ভালো ভাবে মনে রাখার জন্যে সহায়তা করবে।

৭) যদি আপনি ক্রমানুসারে অনেক তথ্য মনে রাখতে চান, তাহলে সে তথ্যগুলো দিয়ে গল্প তৈরি করে নিন। গল্প আকারে মনে রাখার ক্ষেত্রে আপনার কল্পনা শক্তি সহায়তা করবে।

৮) গুরুত্বপূর্ণ কিছু শব্দ বা কী-ওয়ার্ড গুলোকে গুরুত্ব দিন।

৯) নিজের মতো করে সবকিছুর সঙ্গে প্রাসঙ্গিকতা আনুন। আপনার ঘরের আসবাবপত্রগুলোর সঙ্গে আপনার তথ্যগুলোকে রিলেট করুন। এতে মনে রাখা সহজ হবে।

সৌজন্যে : আজকের পত্রিকা