যেভাবে হল পাহারা দিয়েছেন শামসুন নাহার হলের প্রার্থীরা

 যেভাবে হল পাহারা দিয়েছেন শামসুন নাহার হলের প্রার্থীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হল সংসদে নির্বাচনে কয়েকটি হলে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেত্রী ও কয়েকটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

এর মধ্যে শামসুন নাহার হলে স্বতন্ত্র হিসেবে সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হয়েছেন শেখ তাসনিম আফরোজ ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আফসানা ছপা এবং সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ফাতিমা আক্তার।

মঙ্গলবার রাতে ভিপি তাসনিম ও জিএস ছপা  ফেসবুক লাইভের মুখোমুখি হন। লাইভে তারা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

ভিপি তাসনিম আফরোজ  বলেন, আমাদের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রশাসন এবং আমাদের হলে যারা ক্ষমতাসীনরা ছিলেন তারাও ইতিবাচক ভূমিকা ছিল। কারণ তারা চাইলেও যে কোনো ঝামেলা করতে পারত কিন্তু তারা করেনি। সে জন্য তাদের একটি ধন্যবাদ প্রাপ্য।

তিনি আরও বলেন,সারারাত আমরা জেগে আমাদের ভোটকেন্দ্র পাহারা দিয়েছি। দিনের বেলাও আমরা নজরদারিতে রেখেছি। এ অবস্থায় আমাদের হলে কারচুপি করার কোনো সুযোগ ছিল না।

ভিপি বলেন, ভোটের আগের দিন থেকে নির্বাচনের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা সজাগ ছিলাম। আমরা বিভিন্নভাবে ভাগ ভাগ হয়ে কাজ করেছি। আমাদের হলের ভেতরে কলাপসিবল গেট ২টায় বন্ধ করে দেয়। কিন্তু আমরা বলেছিলাম, একটা দিন অন্তত আমাদেরকে বাইরে থাকতে দেয়া হোক। সেটাও দেয়া হয়নি। তখন অনার্স বিল্ডিং থেকে আমাদের ভোটকেন্দ্র দেখা যায়। আমাদের ব্যালট বক্স ছিল প্রভোস্ট ম্যাডামের অফিস রুমে। আর ভোটকেন্দ্র হলো অনার্স বিল্ডিং এবং মিট বিল্ডিংয়ের মাঝখানে টিভিরুমে। আমরা কয়েকজন বিভিন্ন ভাগে ভাগ হয়ে তিনজন তিনজন হয়ে যাই। আমি একটি রুমে ছিলাম, সেখান থেকে স্পষ্ট প্রভোস্ট ম্যাডামের রুম দেখা যায়।

এবং অন্যরা ছিল আরেকটি জায়গায়। এবং মাঝখানে যেখানে সংযোগ জায়গা সেখানে ছিল আরও তিনজন। এভাবেই সারারাত জেগে আমরা চেষ্টা করেছি যেন ভালো একটি নির্বাচন হয়।

ব্যালট কারচুপির বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে ভিপি বলেন, এ রকম কিছু আমাদের চোখে পড়েনি। এ জন্য এ বিষয়ে মন্তব্য না করি।

জিএস আফসানা ছপা  বলেন, আসলে শিক্ষার্থীরা মনে করেছেন যে আমরা তাদের জন্য হয়তো কাজ করবে। ভালো কিছু একটা করব। সে জন্য আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থীকেই তারা বেছে নিয়েছেন। আমাদেরকে সাপোর্ট দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, অনিয়মের অভিযোগ তুলে ছাত্রলীগ ছাড়া সব প্যানেলের ভোট বর্জনের ডাকসু নির্বাচনে দুটি পদ ছাড়া সব পদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রলীগ সমর্থিত প্যানেল।

ভিপি পদে জয়ী হয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা নুরুল হক নুর। আর সমাজসেবা সম্পাদক পদেও জয়ী হয়েছেন কোটা আন্দোলনের আরেক নেতা। বাদবাকি ২০টি পদে জয়ী হয়েছে ছাত্রলীগ।

অপরদিকে ছাত্রী হলগুলো ছাড়াও অন্য হলে ছাত্রলীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। ১৮টি হলের মধ্যে ১২টিতে সহসভাপতি (ভিপি) পদে ছাত্রলীগ ও ৬টিতে সহসভাপতি (ভিপি) পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন।

আর সাধারণ সম্পাদক পদে ১৪টিতে ছাত্রলীগ ও ৪টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন।