ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পদত্যাগ ও জামায়াতের ক্ষমা চাওয়া নিয়ে যা বললেন কাদের

ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পদত্যাগ ও জামায়াতের ক্ষমা চাওয়া নিয়ে যা বললেন কাদের

যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামী একাত্তরের ভূমিকার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ ভাববে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শুক্রবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের পদত্যাগ এবং মুক্তিযুদ্ধে দলটির ভূমিকা নিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করলে বিষয়টি আওয়ামী লীগ কীভাবে নেবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, ক্ষমার চাওয়ার পরই বিষয়টি নিয়ে ভাববে তাঁরা। আর জামায়াতের নিষিদ্ধের বিষয়টি আদালতের ওপর নির্ভর করছে জানান তিনি। প্রসঙ্গত, জামায়াত নেতা ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক দল থেকে পদত্যাগ করেছেন।তিনি পদত্যাগের জন্য একাত্তরে দলটির বিতর্কিত ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা না চাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। দল হিসেবে বিএনপি ‘এলোমেলো অবস্থায়’ আছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, উপজেলা নির্বাচনে না যাওয়ার বিষয়ে বিএনপি দলীয় সিদ্ধান্ত নিলেও দলটির স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা তা মানবেন না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হলেও বিএনপি নির্বাচনে আসবে বলে মনে করেন তিনি। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একতরফা নির্বাচনের বর্ষপূর্তি আজ। এ দিনে আওয়ামী লীগের কোনো কর্মসূচি নেই কেন এমন প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশের মানুষের মেমোরি এত শর্ট না। মানুষ মনে রেখেছে। তারা (বিএনপি) যখন নির্বাচনে জালিয়াতি আর কারচুপির কথা বলে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা বলে, তখন তারা ভুলে যায় যে তারাও এ দেশে ১৫ ফেব্রুয়ারি জালিয়াতির নির্বাচন করেছে। তিনি বলেন, ১৫ ফেব্রুয়ারির মতো প্রহসনমূলক নির্বাচন আর বাংলাদেশে হয়নি। কাজেই ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন করার কলঙ্কে যারা কলঙ্কিত, তাদের মুখে কোনো নির্বাচনের শুচিতা, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা কি উচিত? ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি মনে মনে মনকলা খেতে পারে। বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে অংশ না নিলে আওয়ামী লীগের অন্তঃকলহ বাড়বে, তাতে বিএনপির লাভটা কী? রেজাল্ট কি তাদের পক্ষে আসবে? যদি নৌকার প্রার্থী না জেতে, তাহলে বিদ্রোহী প্রার্থীরা জিতবে। সেও তো আওয়ামী লীগের। তাতে বিএনপির লাভ কী? সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, কার্যনির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেনসহ অন্যরা।

সৌজন্যেঃ যুগান্তর