ছুটিতে সিলেটের কোথায় ঘুরতে যাবেন

ছুটিতে সিলেটের কোথায় ঘুরতে যাবেন

এবছর শনিবার ঈদ হওয়ায় দেশবাসী লম্বা ছুটি পাচ্ছে না। সাধারণতই শুক্র-শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ঈদে নতুন করে যোগ হয়েছে রোববারের ছুটি। সোমবার থেকে যথারীতি ফিরতে হবে কর্মক্ষেত্রে। তবু কে না চায় ঈদে ঘুরাঘুরি থেকে নিজেকে সরিয়া রাখতে। 

আবহাওয়া মেঘলা থাকায় সিলেট বেশ কয়েকটি ভ্রমণ স্পটে ঘোরার লোভটা সামলে থাকা আসলেই অনেক কষ্টসাধ্য। আর যারা সিলেটের বাইরে থেকে ঈদ করেই সিলেটের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন তারা খুব সহজেই অল্পসময়ের মধ্যে ঘুরতে পারেন সিলেটের বেশ কয়েকটি স্পট। আর যারা সিলেটে আছেন তারা তো চাইলেই ঘুরে আসতে পারেন সেই সব জায়গা। 

মূলত রোববারকে সামনে রেখেই অনেকে তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা সাজিয়েছেন। বৃষ্টির এই শহরে একদিনের মধ্যেই ঘুরে যেতে পারেন বিছানাকান্দি, রাতারগুল, পাংথুমাই। এই দিনে এই তিনিটি স্পট ঘুরতে হলে সিলেট থেকে বের হতে হবে সকালেই। সারাদিন এইসব জায়গা ঘুরে রাতের সিলেটেই ঘুরতে পারেন শাহজালাল (র:), শাহপরান (র:) এর দরগাও। ঘুরে আসতে পারেন সেলফী ব্রিজ খ্যাত কাজির বাজার ব্রিজেও। 

রাতারগুল

জলের মধ্যে ভেসে উঠেছে অরণ্য। তাই এটি জলারণ্য। নাম রাতারগুল। রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট। বাংলাদেশের একমাত্র জলাবন যা ‘সিলেটের সুন্দরবন’ নামে খ্যাত। নিচে পানি উপরে গাছ। নৌকা করে রাতারগুল ঘুরে বেড়ানো তো হয়ে উঠতে পারে দারুণ এক এডভেঞ্চার।

সিলেট জেলার গোয়াইনঘাটের ফতেহপুর ইউনিয়নে গুয়াইন নদীর দক্ষিণে এই বনের অবস্থান। সিলেট শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২৬ কিলোমিটার। রাতারগুলে জলে কোমর ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বৃক্ষদের দেখতে পর্যটকরা ভিড় জমান ভরা বর্ষা মৌসুমে। বনময় ঘুরে বেড়ানো যায় নৌকায় চড়ে। ডিঙিতে চড়ে বনের ভিতর ঘুরতে ঘুরতে দেখতে পাবেন দেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট।

জলমগ্ন বলে এই বনে সাপের আবাসটাই বেশি। বানরও আছে বনে, তবে সংখ্যায় কম। তাছাড়া চোখে পড়বে সাদা বক, কানা বক, মাছরাঙ্গা, টিয়া, বুলবুলি, পানকৌড়ি, ঢুপি, ঘুঘু, চিলসহ নানা জাতের পাখি।

রাতারগুল যেতে পারেন দু'দিক দিয়ে। সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরের পেছন থেকে একটা বাইপাস রোড ফতেহপুর হয়ে হরিপুরে গিয়ে মিশেছে। এদিকেও যেতে পারেন। অথবা জাফলং রোডেও যেতে পারেন। তবে যেতে হবে সিলেট থেকেই। যাত্রার জন্য সিএনজি চালিত অটোরিকশাই সবচেয়ে ভালো যানবাহন। নগরীর আম্বরখানা থেকে জনপ্রতি ভাড়া পড়বে ৮০ টাকা। এছাড়া অন্য গাড়ি রিজার্ভ নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে ভাড়া গুনতে হবে একটু বেশি।

আম্বরখানা থেকে চল্লিশ মিনিট পথ যাওয়ার পর পৌঁছে যাবেন গোয়াইন নদীর তীরে। এখানে নেমেই ড্রাইভারের মোবাইল নাম্বার নিয়ে নিন (ফিরে এসে যেন খুঁজে পেতে সমস্যা না হয়)। তারপর চলে যান সোজা নদীর ঘাট। সেখান থেকে নিতে হবে নৌকা। প্রতি নৌকায় উঠতে পারবেন ৪/৫ জন যাত্রী, আর খরচ পরবে নৌকাপ্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে। নৌকা আপনাকে নিয়ে যাবে জলাবনের গহীনে। আর সেখানে আপনার জন্যে অপেক্ষমাণ অবারিত অদ্ভুত এক বন, যা হয়তো আপনি এতদিন কেবল 'অ্যামাজন' নিয়ে তৈরি সিনেমাতেই দেখেছেন!

এইদিনের মধ্যে কয়েকটি স্পট ঘুরতে হলে বেশি সময় উপভোগ করতে পারবেন না রাতারগুলে। বেলা ১১টার মধ্যেই রাতারগুলের মায়া কাটিয়ে ছুটে যান বিছানাকান্দির উদ্দেশ্যে। রাতারগুল থেকে ২ ঘণ্টা দূরত্বের হাদারপাড় বাজারে গিয়ে উঠতে হবে নৌকায়। প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে যাবেন মূল স্পটে। 

বিছনাকান্দি

সুউচ্চ পাহাড়। পাহাড়ের বুক চিঁড়ে নেমে এসেছ বিশাল ঝর্ণা। সারি সারি পাথরের উপর এসে পড়ছে ঝর্ণার জল। বিছনাকান্দি যেনো পাথরের বিছানা। ঝর্ণার জলে এই বিছানায় শুয়ে বসে কাটিয়ে দেয়া যায় একটা দিন।

হাদারপার বাজারে নেমে মিনিট দুয়েক হাঁটলেই পেয়ে যাবেন খেয়া ঘাট। সেখান থেকে নৌকায় বিছনাকান্দি পৌঁছে যাবেন ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যে। টুরিস্ট দেখে মাঝিরা হয়ত ২০০০/২৫০০ টাকা চেয়ে বসতে পারে। ভুলেও রাজি হবেন না। ভাবখানা এমন রাখতে হবে যে, আমরা হেঁটেই যেতে পারব (উল্লেখ্য, নদীর পাড় ধরে হেঁটেও যাওয়া যায়)। নৌকা ভাড়া আসা-যাওয়া নিয়ে সর্বোচ্চ ১৫০০ টাকা দিতে পারেন।

দুপুরের খাবারটা সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারেন। বিছানাকান্দির পাহাড়ে মেঘের খেলা দেখতে দেখতে আর পাথুরে বিছানায় পা ছড়িয়ে খাবার খেয়েই জলমগ্ন হতে পারেন এই বিছানায়। আর হ্যাঁ, শয্যা যেহেতু এই বিছানাতেই হবে সেহেতু শুকনো কাপড় সঙ্গে নিতে ভুলবেন না। সেই সাথে নিয়ে যাওয়া খাবারের ময়লা গুলো নির্ধারিত জায়গায় ফেলবেন।

বিছানাকান্দির মায়া কাটাতে আপনাকে বেগ পেতে হবে অকল্পনীয়। কিন্তু যান্ত্রিক এই জীবনে ঘড়ির কাঁটার সাথেই দৌড়াতে হবে। তাই বিকেল ৪টার মধ্যেই বিছানাকান্দি থেকে পাংথুমাইয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করতেই হবে।

মাঝির সাথে আগে থেকেই পাংথুমাই যাবার ব্যাপারে কথা বলে নিলেই ভালো হয়। ১ ঘণ্টার মধ্যে পাংথুমাই পৌঁছে সেখানে খুব একটা সময় পাবেন না পাহাড় থেকে নেমে আসা জলের শব্দ শোনার জন্য। 

পাংথুমাই

সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের একটি গ্রাম 'পাংথুমাই'। পেছনে মেঘালয় পাহাড় এবং বয়ে চলা পিয়াইন নদীর পাড়ে এই গ্রামটি সম্ভবত: বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর গ্রামগুলোর একটি। এই গ্রামের পাশেই বিশাল ঝর্ণা ' বড়হিল'।

সন্ধ্যাটা পাংথুমাইয়ে কাটিয়ে মনভরে শ্বাস নিয়ে চলে আসুন সিলেটে। নাগরিক জীবনে পরবর্তী ভ্রমণের আগে এই শ্বাসটাই যেন অন্তরে গেঁথে থাকে।

সিলেটে ফিরতে ফিরতে রাত ৯টা। এসে একই বাহনে সেরে নিতে পারেন শাহজালাল (র:) ও শাহপরান (র:) এর মাজার জিয়ারত। তারপর রাতের খাবার খেয়ে চা খাওয়ার জন্য চলে যেতে পারেন সেলফি ব্রিজ খ্যাত কাজিরবাজার ব্রিজে। 

সেই রাতেই চাইলে ফেরতে পারেন যার যার গন্তব্যে কিংবা রাতটা বিশ্রাম নিয়ে পরদিন ভোরেই রওয়ানা দিতে পারেন। 

তবে ছুটি যদি বেশি নিতে পারে যান্ত্রিক শহর থেকে তবে ইচ্ছা মতই করে নিতে পারেন প্ল্যান। যোগ করতে পারেন অন্যান্য স্পটও। 

সেইসব জায়গায় তালিকায় থাকতে পারে ভোলাগঞ্জ, মালনীছড়া চা বাগান, হাকালুকি হাওর, লোভাছড়া চা-বাগান, লোভাছড়া পাথর কোয়ারী, লালাখাল, জাফলং, টাঙ্গুয়ার হাওর। 

লোভাছড়া চা-বাগান

কানাইঘাট উপজেলা ১নং লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের লোভার পশ্চিম-উত্তর তীরে বাগিচা বাজার নামক স্থানে এর অবস্থান। সিলেট থেকে প্রথমে ৪০ টাকার বাস ভাড়া দিয়ে আসতে হবে কানাইঘাট উপজেলা সদর নৌকা ঘাটে । তারপর ২৫ টাকার ইঞ্জিন নৌকা ভাড়া দিয়ে লোভা চা-বাগানে পৌছাতে পারবেন। অপরূপ লোভা নদী আর চা বাগানের কাছে ঝুলন্ত সেতু আপনার দৃষ্টিকে দেবে প্রশান্তি।

লোভাছড়া পাথর কোয়ারী

কানাইঘাট উপজেলার উত্তর পূর্বে এর অবস্থান। সিলেট থেকে ১ম এ ৪০ টাকার বাস ভাড়া দিয়ে কানাইঘাট উপজেলা সদর আসতে হবে। তারপর নৌকা ঘাটে এসে ইঞ্জিন নৌকার মাধ্যমে ২৫ টাকার ভাড়া দিয়ে আপনি লোভাছড়া পাথর কোয়ারী পৌঁছাতে পারবেন।

লালাখাল

পান্না সবুজ জল। ওপারের সবুজ পাহাড় এসে মিশেছে এই জলে। পাশেই চা বাগান। এই সব মিলিয়ে লালাখাল। সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার সন্নিকটে এর অবস্থান। সিলেট শহর হতে লালাখাল যাবার জন্য আপনাকে পাড়ি দিতে হবে ৩৫ কি.মি রাস্তা। অনেক ভাবেই লালাখাল যেতে পারেন। বাস, মাইক্রো, লেগুনা বা অন্য গাড়িতে যেতে পারেন সহজেই।

জাফলং

সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত। সিলেট জেলা সদর হতে সড়ক পথে দূরত্ব মাত্র ৫৬ কি.মি। সিলেট থেকে যাতায়াত: সিলেট থেকে আপনি বাস/ মাইক্রোবাস/ সিএনজি চালিত অটোরিকশায় যেতে পারেন জাফলং এ। সময় লাগবে ১.৩০ থেকে ২ ঘণ্টা। ভাড়া: বাস -জনপ্রতি ৬০ টাকা মাইক্রোবাস- ৪০০০-৫০০০ টাকা (যাওয়া-আসা), সি এন জি চালিত অটো রিকশা: ৭০০ টাকা।

ভোলাগঞ্জ

সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থান। সিলেট থেকে ভোলাগঞ্জের দূরত্ব মাত্র ৩৩ কিলো মিটার। শহর থেকে ভোলাগঞ্জ পর্যন্ত সরাসরি কোন যানবাহন সার্ভিস নেই। আগন্তুকরা সিলেট থেকে টুকেরবাজার পর্যন্ত যাত্রীবাহী বাস অথবা সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে যাতায়াত করতে পারেন। টুকের বাজার থেকে ভোলাগঞ্জ পর্যন্তও রয়েছে একই বাহন।

মালনীছড়া চা বাগান

মালনীছড়া এবং লাক্কাতুড়া চা বাগান দুইটিই সিলেট শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত। শহরের কেন্দ্রস্থল জিন্দাবাজার পয়েন্ট হতে গাড়ীতে মাত্র ১৫ মিনিটের পথ। সিলেট শহর থেকে রিকশাযোগে অথবা অটোরিকশা বা গাড়িতে বিমানবন্দর রোডে চা বাগানটি পাওয়া যাবে। গাড়িতে যেতে আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে ১০ মিনিট এর পথ। রিকশাযোগে যেতে আধঘণ্টা লাগবে।

হাকালুকি হাওর

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা হতে প্রায় ১৫ কিলোমিটার ঘিলাছড়া গ্রামের দিকে অবস্থিত। সিলেট হুমায়ুন রশীদ চত্বর থেকে বাস/সিএনজি/লেগুনা করে মাইজগাঁও বাজারে যেতে হয়। সেখান থেকে পুনরায় সিএনজি যোগে ঘিলাছড়া জিরো পয়েন্টে গেলেই হাকালুকি হাওর ভ্রমণ করা যাবে। ভাড়া জনপ্রতি ১০০ টাকার মত খরচ হবে।

টাঙ্গুয়ার হাওর

টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলার মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। মেঘালয় পাহাড় থেকে ৩০টিরও বেশি ঝর্ণা এসে মিশেছে এই হাওরে। স্বচ্ছ টলমলে জলের নিচে দেখা যায় ঘাস। অতিথি পাখি কখনো জলকেলি, কখনো খুনসুটিতে কিংবা খাদ্যের সন্ধানে এক বিল থেকে অন্য বিলে এক হাওর থেকে অন্য হাওরে গলায় প্রাণকাড়া সুর তুলে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ছে। স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছয়কুরি কান্দা আর নয় কুরি বিলের এ বিশাল জলভূমি টাঙ্গুয়ার হাওরে শীতের শুরু থেকে অস্ট্রেলিয়া, সাইবেরিয়াসহ বিভিন্ন শীত প্রধান দেশ থেকে হাজার মাইল রাস্তা অতিক্রম করে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওরের পার্শ্ববর্তী শনি, মাটিয়ান, কানামিয়াসহ আশপাশের হাওরে এসব অতিথি পাখি অবস্থান নেয় । এদের মধ্যে, মৌলতি হাঁস, বালি হাঁস, লেঞ্জা সরালি, পিয়ারি, কাইম, কালা কুঁড়া, রামকুড়া, মাছরাঙ্গা, কানিবক, পানকৌড়িসহ অনেক পাখি খাদ্যের সন্ধানে এক হাওর থেকে অন্য হাওরে ডানা ঝাপটিয়ে অবাধ বিচরণ করে । আর বর্ষায় হাওরে পাবেন নানা প্রজাতির মাছের দেখা।


সিলেট চৌহাট্টা থেকে মাইক্রোবাস যোগে অথবা কুমার গাঁও বাস স্ট্যান্ড থেকে বাস যোগে সুনামগঞ্জে স্ট্যান্ড পর্যন্ত যাওয়া যায়। সেখান থেকে সাহেব বাড়ি ঘাট অথবা বৈঠাখালিঘাট পর্যন্ত রিকশায় গেলেই সেখান থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরের উদ্দেশ্যে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় অথবা মোটর সাইকেলের যাতায়াতের সু ব্যবস্থা আছে। নৌকায় দিন প্রতি ভাড়া ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা । লা হআর মোটর সাইকেলে তাহিরপুর বাজার পর্যন্ত জনপ্রতি ভাড়া ২০০ টাকা। সেখান থেকে নৌকায় টাঙ্গুয়া। হাওরে ঘুরতে ঘুরতে দেখে নিতে পারেন ভারত সীমান্তের অপূর্ব নদী যাদুকাটা, বারিকের টিলা, বড়ছড়া শুল্ক ষ্টেশন ও টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্প।

একদিনে সিলেট ভ্রমণ রবি ঠাকুরের পঙক্তি মতোই- 

‘অন্তরে অতৃপ্তি রবে/ 
সাঙ্গ করি মনে হবে/ 
শেষ হয়ে হইল না শেষ।’

সংগৃহীত