কল্লাকাটা গুজব: ফেঞ্চুগঞ্জে ওদের মাথায় হাত!

কল্লাকাটা গুজব: ফেঞ্চুগঞ্জে ওদের মাথায় হাত!

ফরিদ উদ্দিন, ফেঞ্চুগঞ্জ :: সম্প্রতি দেশজুড়ে ভয়ানক আতংক ছড়ানো হচ্ছে। ছেলেধরা বা কল্লাকাটা নামের এই ভীতিকর গুজব গজবের মত ভর করেছে দরিদ্র ভিক্ষুকদের উপর। চারিদিকে কল্লাকাটা গুজবে গণপিটুনির ভয়ে বাইরে বের হতে পারছেন না ভিক্ষুকরা। যে কারণে প্রায় অনাহারে কাটছে তাদের দিনরাত। 

এরকম বিপাকের কবলে পড়েছেন ফেঞ্চুগঞ্জ হাকালুকি হাওরপারের ভিক্ষুক আব্দুল মান্নান, রইব আলী, মহরম গাজিরা। তারা বলেন, ঘরের বাহিরে যেতে ভয় করে কে কখন কল্লাকাটা বলে গণপিটুনি দেয়, তার ঠিক নাই। 

রইব আলী বলেন, ভিক্ষার চাল, ধান রাখার জন্য আমাদের ঝুলি লাগে। কিন্তু চারদিকে যে অবস্থা, ঝুলি কাধে নিয়ে বের হতে খুব ভয় করে। মানুষ হুজুগে পিঠাইয়া জান নিয়ে নেয়! 

মহরম গাজি জানান, তার ৬সদস্যের পরিবার। দেশে হুজুগে গণপিটুনির কারনে তিনি এক সমাপ্ত থেকে বাহিরে যান না। সংসারে অনাহার অর্ধাহার চলছে। পরিবারের খাবার যোগাতে তিনি কচুর লতি (লতা) তুলে বিক্রি করেন। এতেও বিপদ আশংকা রয়েছে। 

তিনি বলেন, কচুর লতা তুলতে এ বাড়ি ও বাড়ির আশপাশে ঝোঁপে জঙ্গলে ঘুরতে হয়, এটা আরো বিপদজনক! সব মিলিয়ে কল্লাকাটা গুজবের গজব এসেছে ভিক্ষুক সম্প্রদায়ের উপর। 

ফেঞ্চুগঞ্জ ফেরীঘাট এলাকার ভিক্ষুক বশির আলীর দেখা নেই ৫/৭ দিন থেকে। খোঁজে খোঁজে তাকে পাওয়া গেল ফেঞ্চুগঞ্জ ডাইকের বাজার এলাকায়। আলাপে বলেন, ভিক্ষা করতে বের হননা প্রানভয়ে। এখন তিনি বেকার বে-রোজগার। 

তিনি বলেন, এই বয়সে শরীরে কাজ কুলায় না। কিন্তু পেট তো সেটা বুঝে না! বাধ্য হয়েই ক্ষুধার আজাব ভোগ করতে হচ্ছে।

ফেঞ্চুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক,লেখক রিয়াজ উদ্দিন ইসকা তার নিজ ফেইসবুক একাউন্টের স্ট্যাটাসে লিখেন- কল্লাকাটা গুজব ও গণপিটুনীর কারণে গত কয়েকদিন ধরে ভিক্ষুকের দেখা মিলছে না। নিয়মিত আসা ফেরিওয়ালার' আসছেন না। প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠির জীবন আরো দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। গুজবগোষ্ঠির উপর অভিশাপ দিচ্ছি- তোরা দোজখে যা।" 

দেশের গুজব কত জনের জন্য গজবের মত হয়ে দাঁড়িয়েছে তা সহজেই অনুমেয়। অপর দিকে গুজব ঠেকাতে তৎপর ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন। তারা গুজবে আতংকিত না হয়ে সচেতন হতে নিয়মিত প্রচারণা চালাচ্ছেন।