Thursday , July 27 2017
Home / প্রযুক্তির খবর / ক্ষুব্ধ পুলিশের একি আচরণ
Opress-khobor24

ক্ষুব্ধ পুলিশের একি আচরণ

খবর ২৪ : কুড়িগ্রামের  রৌমারী উপজেলা সদরে এক সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে গায়ে মদ ঢেলে ঘুরিয়েছে পুলিশ। ওই সাংবাদিকের নাম রফিকুল ইসলাম সাজু ।

রফিকুল ইসলাম সাজু দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার রৌমারী প্রতিনিধি এবং রৌমারী থেকে প্রকাশিত মাসিক উত্তর চিত্র পত্রিকার বার্তা সম্পাদক।

ঘটনার রাতে রৌমারী ইসলামী ব্যাংকের নিচতলায় তার কার্যালয়ে সংবাদসংক্রান্ত কাজ করছিলেন। কার্যালয়টি মাসিক উত্তর চিত্র পত্রিকার কার্যালয় বলে জানিয়েছেন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক রেজওয়ানুল হক পাখি।

এদিকে সাংবাদিকের ওপর পুলিশের এমন নির্যাতন ও আচরণে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে স্থানীয় প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সমাজ ।

জানা গেছে,  রৌমারী থানা পুলিশের বিরুদ্ধে গ্রেফতার-বাণিজ্যসহ নানা দুর্নীতির খবর প্রকাশ করায় পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ এ ঘটনা ঘটায়। এর প্রতিক্রিয়ায় কুড়িগ্রামের সাংবাদিকসহ সচেতন মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

রফিকুল ইসলাম জানান, শুক্রবার ( ২০ ফেব্রুয়ারি )  রাত পৌনে ১১টার দিকে ইসলামী ব্যাংকের নিচতলায় মাসিক উত্তর চিত্র পত্রিকার কার্যালয়ে পত্রিকার কাজ করছিলেন। এ সময় রৌমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জিয়াউল হকের নেতৃত্বে চার পুলিশ সেখানে প্রবেশ করেই গালিগালাজ শুরু করেন।

পুলিশের হাতে থাকা ব্যাগ থেকে একটি মদের বোতল বের করে তার গায়ে ঢেলে দিয়ে দুই হাতে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে টেনেহিঁচড়ে বের করেন। এ সময় বাজারের বিপুলসংখ্যক লোক সেখানে উপস্থিত হন।

আগে থেকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাব হোসেন তাকে চড়থাপ্পড় ও লাথি মারতে মারতে প্রকাশ্য বাজারে ঘোরান।

আটকের কারণ জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘মদ পান করায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

পুলিশ রাত দেড়টার দিকে গ্রেফতার সাজুকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হাজির করে। সেখানে ইউএনও আব্দুল হান্নান ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বিচার শুরু করেন।

ইউএনও অপরাধের বিষয় জানতে চাইলে আটক সাংবাদিক নিজেকে নিরপরাধ দাবি করেন। ইউএনও মদ পানের কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে সাজা না দিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দেন।

এরপর পুলিশ মদপানের সাজানো মামলা দিয়ে শনিবার সাজুকে কুড়িগ্রাম জেলহাজাতে পাঠায়।

সরজমিনে তদন্তে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত-লাগোয়া রৌমারী থানা এলাকায় ওসি মো. শামিমের নেতৃত্বে ব্যাপক দুর্নীতি হয়। এ সব দুর্নীতির খবর একাধিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত হলে শামিমের বদলী হয়। তখন থেকে খবর প্রকাশের জন্য পুলিশ সাজুকে দায়ী করে আসছিল। এরই জের হিসেবে সাজুকে গ্রেফতার করে হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ওসি সোহরাব হোসেন বলেন, ‘মদ খাওয়া অবস্থায় ওই সাংবাদিককে আটক করা হয়।’

শারীরিক নির্যাতনের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে ওসি বলেন, ‘পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ায় তাকে দু-একটি চড়থাপ্পড় মারা হয়েছে।’

এদিকে, রফিকুল ইসলাম সাজুকে অন্যায়ভাবে আটক ও নির্যাতনের প্রতিবাদে রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার সাংবাদিক সমাজ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।

রৌমারী প্রেস ক্লাব ও রাজীবপুর প্রেস ক্লাব প্রতিবাদ সভা করে ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানিয়েছে সাংবাদিক সমাজ ।

Check Also

ছাত্রীদের নগ্ন করে তল্লামি

ছাত্রীদের নগ্ন করে দেহ তল্লাশি!

খবর২৪: ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের একটি আবাসিক স্কুলে প্রায় ৭০ জন ছাত্রীকে নগ্ন করে তাদের দেহ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *