Friday , June 23 2017
Home / আলোচিত খবর / টকারদের সেলফ সেন্সরশিপ !
amnesty-khobor24

টকারদের সেলফ সেন্সরশিপ !

খবর ২৪ : টেলিভিশনে প্রচারিত টকশোতে আলোচকরা সেলফ সেন্সরশিপ আরোপ করে থাকে বলে জানিয়েছে লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল । সংস্থাটির প্রকাশিত এক রিপোর্টের বাংলাদেশ অংশে এমন তথ্য জানা গেছে । এতে জানানো হয় , অনেক সাংবাদিক ও টকশোতে অংশগ্রহণকারী বলেছেন, হুমকির কারণে তারা কথা বলার সময় সেলফ সেন্সরশিপ চর্চা করেন।

২০১৪ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত ঘটনার ওপর ভিত্তি করে প্রকাশ করা হয়েছে ওই রিপোর্ট।

এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ও অন্য নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী দায়মুক্তির সুযোগ নিয়ে নির্যাতন চালাচ্ছে।

কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে অব্যাহতভাবে কাজ করছেন কারখানা শ্রমিকরা।

বিশ্বের ১৬০টি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরে বুধবার প্রকাশিত হয় ওই প্রতিবেদন।

এতে বলা হয়েছে, গত বছর জানুয়ারিতে নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগকে বিজয়ী ঘোষণা করার পর থেকে তিনি সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

ওই নির্বাচন বর্জন করেছিল বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিএনপি) ও এর মিত্ররা। নির্বাচনের প্রতিবাদে বিরোধীদের বিক্ষোভের সময় শতাধিক মানুষ নিহত হন।

ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশে জোর করে গুম করে দেয়া অংশে বলা হয়, জোর করে কতজন মানুষকে গুম করে দেয়া হয়েছে তার সঠিক কোন সংখ্যা নেই। তবে কারো কারো মতে এ সংখ্যা ৮০’রও বেশি। ২০১২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে নথিভুক্ত গুমের ঘটনা ২০টি।

এর মধ্যে ৯ জনকে পরে পাওয়া গেছে মৃত অবস্থায়। দীর্ঘ সময় আটক থাকার পর স্বজনদের কাছে ফিরেছেন ৬ জন। এ সময়ে তারা কোথায় ছিলেন সে বিষয়ে কেউ জানতো না। বাকি ৫ জনের ভাগ্যে কি ঘটেছে সে বিষয়ে কোন তথ্য নেই।

ওই প্রতিবেদনে ২০১৪ সালে বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বলা হয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারা ব্যবহার করে সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে।

এই ধারার অধীনে, কেউ যদি এ আইন লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত হন ও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়ে থাকে ২০১৩ সালের ৬ অক্টোবরের আগে তাহলে তাকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেল দেয়া হতে পারে।

ওই সময়ে, একটি সংশোধনীতে শুধু শাস্তি বৃদ্ধি করে সর্বোচ্চ শাস্তি ১৪ বছরই করা হয় নি, একই সঙ্গে সর্বনিম্ন শাস্তি করা হয়েছে ৭ বছর। শান্তিপূর্ণ কিছু কর্মকাণ্ডকে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা অনুযায়ী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে সংবাদপত্রে প্রকাশিত ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সমালোচনা করা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের রিপোর্ট করা। ২০১৩-১৪ সময়কালের মধ্যে আইসিটির ৫৭ ধারার অধীনে কমপক্ষে চারজন ব্লগার, ফেসবুকের দু’জন ব্যবহারকারী ও মানবাধিকারবিষয়ক একটি সংগঠনের দু’কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছেন ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন, সুব্রত অধিকারী শুভ, মশিউর রহমান বিপ্লব ও রাসেল পারভেজ। মানবাধিকার কর্মীরা হলেন- অধিকার সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক নাসিরুদ্দিন এলেন। সাংবাদিক সহ মিডিয়ার এক ডজনেরও বেশি কর্মী বলেছেন, কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করায় নিরাপত্তা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো তাদেরকে হুমকি দিয়েছে।

তারা সাধারণত সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে ফোনে সরাসরি এই হুমকি দেয় অথবা তার সম্পাদকের মাধ্যমে ওই বার্তা পৌঁছে দেয়।

অনেক সাংবাদিক ও টকশোতে অংশগ্রহণকারী বলেছেন, এর ফলে তাদেরকে সেলফ সেন্সরশিপ চর্চা করতে হচ্ছে।

ধর্মীয় গ্রুপগুলোরও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হুমকি। কমপক্ষে ১০টি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে এসব গ্রুপ গুজব ছড়িয়ে দিয়েছে যে, নির্দিষ্ট কেউ একজন সামাজিক মিডিয়াতে ইসলামের অবমাননা করেছে অথবা কর্মক্ষেত্রে ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত। এতে কমপক্ষে ৫ জনের ওপর হামলা হয়েছে। তার মধ্যে দু’জন নিহত হয়েছেন। মারাত্মক আহত হয়েছেন অন্যরা। নিহত দু’জন হলেন আহমেদ রাজিব ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক একেএম শফিকুল ইসলাম।

Check Also

ছাত্রীদের নগ্ন করে তল্লামি

ছাত্রীদের নগ্ন করে দেহ তল্লাশি!

খবর২৪: ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের একটি আবাসিক স্কুলে প্রায় ৭০ জন ছাত্রীকে নগ্ন করে তাদের দেহ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *