Thursday , July 27 2017
Home / আলোচিত খবর / এসির যুগ শেষ?
এসির যুগ

এসির যুগ শেষ?

হো চি মিন সিটির আর্দ্র বাতাসে মিনিট পাঁচেক থাকলেই আপনি স্বস্তির খোঁজে আশপাশের কোনো শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) কামরায় ছুটে যাবেন। ভিয়েতনামের ওই শহরের মতো এশিয়ার উন্নয়নশীল অনেক দেশে এসির ব্যবহার বেড়েছে। যেমন ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের মতো প্রায় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকার বিভিন্ন দেশে গরম কখনো কখনো সহনীয় মাত্রার বাইরে চলে যাচ্ছে।

কিন্তু একটি স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান ভিন্ন উপায়ে পরিবেশ শীতল রাখার উপায় বের করেছে। টিথ্রি আর্কিটেকচার এশিয়া নামের প্রতিষ্ঠানটির দপ্তর আছে ভিয়েতনাম ও ফ্রান্সে। তারা জৈব-পরিবেশভিত্তিক স্থাপত্যের প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে। এ জন্য প্রচুর জ্বালানিখেকো এসির পরিবর্তে প্রাকৃতিক উপায়েই ঘরের ভেতর একটি স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় অবস্থা, জলবায়ু এবং গাছপালার সাহায্য লাগবে।
কার্বন ট্রাস্ট নামের পরামর্শক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মাইলস ম্যাককার্থি বলেন, সব নতুন ভবনই এখন পরিবেশবান্ধব নকশায় নির্মাণ করা জরুরি। এশীয় শহরগুলোর চাহিদা অনুযায়ী আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে ভবিষ্যতে জ্বালানি ও পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত রেখেই বাসোপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

টিথ্রি আর্কিটেকচার এশিয়ার পরিচালক শার্ল গায়াভার্দাঁ বলেন, বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় তাঁরা হো চি মিন সিটিতে একটি সাশ্রয়ী অ্যাপার্টমেন্ট বানিয়েছেন। এতে একটি দরিদ্র এলাকার ৩৫০টি পরিবারের আবাসনের বন্দোবস্ত হয়েছে। কিন্তু এসির জন্য তাঁদের কোনো খরচ লাগছে না। ভবনটির নকশাটাই এমন যে হো চি মিন সিটির মতো উষ্ণ পরিবেশেও শীতাতপনিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো অর্থ খরচের প্রয়োজন নেই।
স্থাপত্যবিদেরা বললেন, এ রকম পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণের জন্য তাঁরা পূর্ব ও পশ্চিমমুখী সামনের অংশে বড় বড় কাচের দেয়াল ব্যবহার থেকে বিরত ছিলেন। বারান্দা ও ছাদে প্রাকৃতিক আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা অবশ্যই রাখতে হয়। এই নকশায় নির্মিত ভবনের তাপমাত্রা বাইরের চেয়ে প্রায় পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম হয়ে থাকে।

গায়াভার্দাঁ মিয়ানমার ও কম্বোডিয়ায় বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল পরিবেশবান্ধব ভবনের নকশা করে দিয়েছেন। ইতিমধ্যে সেগুলো নির্মাণের কাজ শেষ। তাই দেখে অন্য স্থাপত্যবিদেরাও অনুপ্রাণিত হয়েছেন। অবশ্য এ রকম ভবনের ধারণা বা দৃষ্টান্ত নতুন নয়। ২০ শতকের আগে থেকেই পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণের প্রচলন ছিল। স্পেনের ঐতিহ্যবাহী বসতবাড়ি এবং চীনা গ্রামের বাড়িগুলো দেখলেই সেটা বোঝা যায়।

মার্কিন প্রকৌশলী উইলিস হ্যাভিল্যান্ড ক্যারিয়ার ১৯০২ সালে এসি আবিষ্কার করেন। সেই থেকে জৈব-পরিবেশনির্ভর তাপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার প্রতি মানুষের গুরুত্ব কমে যায়। আজকের যুগে বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবহারের ৪০ শতাংশই খরচ হয় পরিবেশ শীতলীকরণের কাজে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার অনুমান, ২০৫০ সালের মধ্যে এশিয়া থেকেই ৮০ শতাংশ এসির চাহিদা আসবে।

Check Also

ছাত্রীদের নগ্ন করে তল্লামি

ছাত্রীদের নগ্ন করে দেহ তল্লাশি!

খবর২৪: ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের একটি আবাসিক স্কুলে প্রায় ৭০ জন ছাত্রীকে নগ্ন করে তাদের দেহ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *